দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তাঁর ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন সিরিয়ার একটি আদালত। মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এ রায় দেন।
সিরিয়ার ১৪ বছরের সংঘাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী অপরাধের মামলায় আসাদ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম রায়। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের প্রায় ২০ মাস পর তাদের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো মৃত্যুদণ্ডের রায় হলো।
আদালতের অধিবেশন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। রায় ঘোষণার সময় বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো ব্যবহার করে বাশার আল-আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন।
একই মামলায় আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান পরিচালনার জন্য তাঁকে দায়ী করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারের পোশাক পরা নাজিবকে একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড় করিয়ে আদালতে রায় পড়ে শোনানো হয়। এ সময় দামেস্কের কেন্দ্রীয় আদালত ভবনের বাইরে রায় শুনতে বহু মানুষ জড়ো হন।
বাশার আল-আসাদ ও তাঁর ভাই মাহের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর রাশিয়ায় পালিয়ে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় পান। সিরিয়ার নতুন সরকার রাশিয়ার কাছে তাদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে।
মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আতেফ নাজিব সাবেক সিরীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় দারায় একটি স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখার অভিযোগে একদল কিশোরকে আটক ও নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের অন্যতম অনুঘটক হয়ে ওঠে।
সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে ওই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানের মুখে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ওই সংঘাতের অবসান ঘটে।
বাশার আল-আসাদের ভাই মাহের সিরীয় সেনাবাহিনীর চতুর্থ সাঁজোয়া ডিভিশনের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। সিরিয়ার বিরোধী আন্দোলনকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের পাশাপাশি নিজস্ব আটককেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ করে আসছেন।
এমএস/